মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:৫৬ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ :
বরিশালে বিএনপি কর্মী খুনের নেপথ্য ও মামলায় বাণিজ্যের অভিযোগ সাংবাদিক তানজিমুন রিশাদের জন্মদিন বরিশালে চোরচক্রের মুলহোতা দুই আসামি কারাগারে বরিশালে বিএনপি কর্মী হত্যায় মূল আসামি আড়াল করে অন্যদের ফাঁসানোর চেষ্টা ঝালকাঠিতে সমাজসেবক রিয়াজ মুন্সীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সক্রিয় দায়িত্বে প্রশংসিত স্টিমারঘাট ফাঁড়ির ইনচার্জ নাসিম ক্ষমতার হাত বদল হয়েছে, বাকেরগঞ্জবাসীর ভাগ্য বদলায়নি : মাহমুদুন্নবী ঝালকাঠি-২ আসনে বিএনপির শক্ত ঘাঁটিতে দাঁড়িপাল্লা এগিয়ে বরিশালে ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে অভিযানে অবৈধ জাটকা জব্দ বরিশালে বগুড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ রেজার নেতৃত্বে দৃশ্যমান পরিবর্তন
পরিবেশ ধ্বংসকারীদের বিরুদ্ধে অভিযানে নেমে অপপ্রচারের মুখে কর্মকর্তারা

পরিবেশ ধ্বংসকারীদের বিরুদ্ধে অভিযানে নেমে অপপ্রচারের মুখে কর্মকর্তারা

নিজস্ব প্রতিবেদক:: বরিশাল অঞ্চলে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ও কঠোর অভিযান চালিয়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। গত কয়েক মাসে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় পরিচালিত একের পর এক মোবাইল কোর্ট অভিযানে ২২টি অবৈধ ইটভাটা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। একই সঙ্গে এসব অভিযানে সর্বমোট ৩৭ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তর, বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পরিচালিত এসব অভিযানে সার্বিক দিকনির্দেশনা ও তদারকি করেন বরিশাল বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মুহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলাম। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে সক্রিয় উপস্থিতি, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে অভিযানকে সফল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন বরিশাল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক কাজী সাইফুদ্দীন।
পরিচালক মুহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলাম বলেন,“পরিবেশ সংরক্ষণ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট ও আপসহীন। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।
সহকারী পরিচালক কাজী সাইফুদ্দীন বলেন,মাঠপর্যায়ে নিয়মিত নজরদারি ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে অবৈধ ইটভাটাগুলো শনাক্ত করা হচ্ছে। কোনো চাপ বা প্রতিবন্ধকতা আমাদের দায়িত্ব পালনে বাধা দিতে পারবে না।
একাধিক উপজেলায় ব্যাপক অভিযান বাবুগঞ্জ, বরিশাল সদর, হিজলা, বাকেরগঞ্জ ও বানারীপাড়া উপজেলায় পরিচালিত এসব অভিযানে জিগজ্যাগ, ড্রাম চিমনি ও পাঁজা প্রযুক্তির অবৈধ ইটভাটার কিলন ও চিমনি ভেঙে দেওয়া হয়। ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় আগুন নির্বাপণ করে বিপুল পরিমাণ কাঁচা ইট ধ্বংস করা হয়। অভিযানে পুলিশ, ১০ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ান, আনসার ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সক্রিয় সহযোগিতা করেন।
তবে পরিবেশ রক্ষায় এই সফল অভিযান বাস্তবায়ন করতে গিয়ে দুষ্কৃতী ও প্রভাবশালী ইটভাটা মালিকদের রোষানলের শিকার হচ্ছেন পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অভিযান পরিচালনার পর ক্ষুব্ধ অবৈধ ইটভাটা মালিকরা পরিবেশ অধিদপ্তরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে সাংবাদিকদের বিভ্রান্তিকর ও ভুল তথ্য দিয়ে মনগড়া ও অগ্রহণযোগ্য সংবাদ প্রকাশ করিয়েছে। এতে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর পাশাপাশি কর্মকর্তাদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
পরিবেশ সচেতন মহলের মতে, পরিচালক মুহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলামের দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং সহকারী পরিচালক কাজী সাইফুদ্দীনের মাঠপর্যায়ের কার্যকর উদ্যোগের ফলেই বরিশাল অঞ্চলে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে এমন ধারাবাহিক ও ফলপ্রসূ অভিযান সম্ভব হয়েছে। তাদের ভাষ্য, “এই অভিযান শুধু অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদ করেনি, বরং পরিবেশ সংরক্ষণে প্রশাসনের দৃঢ় অবস্থানের একটি শক্ত বার্তা দিয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার হবে-এটাই এখন মানুষের প্রত্যাশা।”
পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের অধীন সকল জেলায় অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট অব্যাহত থাকবে এবং পরিবেশবিধ্বংসী কোনো কার্যক্রমকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

সংবাদটি শেয়ার করুন ...




© All rights reserved DailyAjkerSundarban